সারসংক্ষেপ:
শরৎচন্দ্র তাঁর এই বাল্যজীবনের ছবি মনে মনে অনুধ্যান করেই কি 'মহাপ্রাণ' ইন্দ্রনাথকে সৃষ্টি করেছিলেন? মাটি থেকে রস আহরণ করে গাছ, কিন্তু ফুলটি যখন সে ফোটায় তখন আর মাটিতে নয়, আকাশে। বাস্তবের মাটি থেকে রস আহরণ করে কবির মনোতরু ফুলটি ফোটান কল্পনার আকাশে। সাহিত্যিক তাঁর সৃষ্টির উপাদান সংগ্রহ করেন বাস্তবজীবন থেকে; কিন্তু সাহিত্য বাস্তবের হুবহু প্রতিচ্ছবি নয়। বস্তুজগতের অভিজ্ঞতা লেখকের কল্পনার যোগে নতুনরূপে মণ্ডিত হয়ে সাহিত্যে রূপলাভ করে। ব্যক্তি শরৎচন্দ্রের অভিজ্ঞতা সাহিত্যিক শরৎচন্দ্রের মানসকল্পনার রসে জারিত হয়ে নতুন মূর্তি পরিগ্রহ করেছে শ্রীকান্ত ১ম পর্বে। ১৯১৫ খ্রিস্টাব্দ থেকে, ১৯১৬ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত দীর্ঘ ১৩ মাস ধরে ভারতবর্ষ' পত্রিকায় 'শ্রীশ্রীকান্ত শর্মা নামে এক লেখকের 'শ্রীকান্তর ভ্রমণ কাহিনী' প্রকাশিত হতে থাকে। প্রথম দুটি সংখ্যার পরেই লেখকের নাম দেখা যায় শ্রীকান্ত শর্মার পরিবর্তে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। ১৯১৭-র ১২ ফেব্রুয়ারি গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় অ্যান্ড সন্স শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় লিখিত 'শ্রীকান্ত ১ম পর্ব পুস্তকাকারে প্রকাশ করেন। শ্রীকান্তর কাহিনিকে দুইটি সুস্পষ্ট ভাগে ভাগ করা যায়। দ্বাদশটি পরিচ্ছেদে গ্রথিত এই শ্রীকান্ত-কথার প্রথম সাতটি অধ্যায় নিয়ে একটি ভাগ ও শেষ পাঁচটি অধ্যায় নিয়ে আরেকটি ভাগ। প্রথমভাগে শ্রীকান্তর বাল্য ও কৈশোরের কাহিনি, দ্বিতীয়ভাগে যৌবনের দিনে বিচিত্র প্রণয়সঞ্চারের বৃত্তান্ত।