সারসংক্ষেপ:
“হেঁটে কেনো যাচ্ছো?স্যারের বাসা আরো দূরে।” উমাইরের কন্ঠস্বর।অনেকটা হাঁপানো। তাহুরার পা থামে। চকিত পেছনে ফিরলে উমাইরের লম্বাটে অবয়ব স্পষ্ট হয়।লোকটা স্পোর্টস জার্সি এবং প্যান্ট পরিহিত।আপাদমস্তক নির্লজ্জের মতো দেখে নিলো তাহুরা মুহূর্তে।আসলে সে এতটা চমকে গেলো নজরের দিকে মস্তিষ্ক এলোমেলো হলো। “চলে যাবো স্যার।” সে সাথে সাথে তার ছাতাটা স্যারকে এগিয়ে দেয়।অল্প হাসার চেষ্টায় দ্বিধা নিয়ে জানায়, “এটা রাখুন।” নিজ ছাতা হুট করে ধরিয়ে দিতে চাইলে উমাইর পকেটে হাত গুঁজে।ফলস্বরূপ ছাতাটা পড়ে রাস্তায়।বড্ড অপমানিত অনুভব করলো সরল তাহুরা।এতটা কঠোর কেনো স্যার?তাহুরা তো কেবল তার ঋণের বোঝা হালকা করছে! সেই ছাতার কথা থাকুক অগোচরে। উমাইরের মেজাজ বেজায় বিক্ষিপ্ত।প্রেয়সীর ঘর্মাক্ত পিঠ তার মস্তিষ্কে লৌহের পরিমাণ বাড়ায়। সে গমগমে সুরে মেজাজ খোয়ায়, “এমন ঘেমে?তোমার পিছে ঘেমেছে।ওড়না দিয়ে ঘোমটা টানো।” “হু?” “কভার ইওরসেলফ,মাথামোটা।রিক্সা,সিএনজি নেই?ভরা রোদে হাঁটছো কেনো রাস্তায়?” উমাইর অনেকটা চিল্লিয়ে বলে। তাহুরার যাতায়াত এবং সময়সূচি সকলকিছু উমাইরের মুখস্ত।মেয়েটার জন্যে উমাইর উন্মাদ।সকালবেলা ফুটবল ম্যাচ রেখেছিল ক্লাবে মেয়েটার সহিত দেখা করার উদ্দেশ্যে।তবে,ঘর্মাক্ত পিঠ এবং তা দৃষ্টিকটু অতটা না লাগলেও প্রেমিক পুরুষের হৃদয়ে হরতাল শুরু। তাহুরার আঁখি ততক্ষণে ভিজে একাকার।এক হাতে ওড়না টেনে মাথায় দেয়। স্যার ওকে এমন করে বকলো কেনো!যদি আজ বাবার থেকে রিক্সা ভাড়া নিতো তাহলে কি হেঁটে যেতো সে?রিক্সা ভাড়া নিতেই তো ভুলেছিলো সে। “সরি।” লাজে,অপমানে লাল টুকটুকে মেয়ের আঁখি টইটুম্বুর। উমাইর তাকে কাঁদতে দেখে হৃদয়ে টান অনুভব করে